
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার তদারকিতে দেশের ৪৬ জেলায় ১২০টি প্রতিষ্ঠানকে ৯ লাখ ৯৩ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। মঙ্গলবার ঢাকা মহানগরসহ বিভিন্ন এলাকায় ৬১টি দল একযোগে এ অভিযান পরিচালনা করে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখা এবং অতিরিক্ত মূল্য আদায় বন্ধে দেশের ৪৬ জেলায় অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। মঙ্গলবার পরিচালিত এ অভিযানে ১২০টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৯ লাখ ৯৩ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
অধিদপ্তরের ৬১টি দল ঢাকা মহানগরসহ সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর পাইকারি ও খুচরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে এ তদারকি চালায়। অভিযানে পণ্যের বিক্রয়মূল্য, দোকানে মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ ও সরবরাহের বিষয়গুলো যাচাই করা হয়।
এ সময় ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অযৌক্তিকভাবে পণ্য মজুদ এবং সরবরাহে বাধা তৈরি না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি দোকানে দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা টাঙানো এবং পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে সঠিক ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিত করতে সতর্ক করা হয়।
ফল ব্যবসায়ীদের ন্যায্য ও যৌক্তিক দামে ফল বিক্রির নির্দেশ দিয়েছে অধিদপ্তর। একই সঙ্গে পচা বা নষ্ট ফল ভালো ফলের সঙ্গে মিশিয়ে বিক্রি এবং ফলে ক্ষতিকর রাসায়নিক বা অননুমোদিত পদার্থ ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
পণ্য কেনার আগে মূল্যতালিকা যাচাই, সঠিক ওজন বুঝে নেওয়া এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পণ্যের সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয়মূল্য, উৎপাদনের তারিখ ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ দেখে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে অধিদপ্তর। কেনাকাটার পর রশিদ বা ভাউচার সংগ্রহ করতেও ভোক্তাদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
কেনাকাটার ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম বা প্রতারণার শিকার হলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১ নম্বরে অভিযোগ জানাতে বলা হয়েছে।
বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ অব্যাহত রাখতে এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।