
সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাইয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মুহাম্মদ কাদের গনি চৌধুরী বলেছেন, বস্তুনিষ্ঠতার কাছে অসত্য সংবাদ পরাজিত হয়। অপতথ্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার ঠেকাতে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
বস্তুনিষ্ঠতার প্রশ্নে সাংবাদিকদের আপসহীন থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান সম্পাদক মুহাম্মদ কাদের গনি চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বস্তুনিষ্ঠতার কাছে অসত্য সংবাদ সব সময় পরাজিত হয়। তাই সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই করা সাংবাদিকতার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
বৃহস্পতিবার বিকেলে বাসসের প্রধান কার্যালয়ে তিন দিনব্যাপী ‘মাল্টিমিডিয়া, এআই ও ফ্যাক্টচেকিং বিষয়ক প্রশিক্ষণ’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) আয়োজিত এ প্রশিক্ষণে বাসসের ৩৭ জন সাংবাদিক অংশ নেন।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, বর্তমানে অপতথ্য ছড়ানোর প্রবণতা এতটাই বেড়েছে যে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাসের সংকট তৈরি হয়েছে। প্রযুক্তির সাহায্যে এখন চেহারা ও কণ্ঠস্বরও পরিবর্তন করা সম্ভব। এ পরিস্থিতিতে সাংবাদিকদের কোনো খবর প্রকাশ বা প্রচারের আগে বারবার তথ্য যাচাই করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিরোধী মতকে কোণঠাসা করা, ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য গুজব ছড়ানো হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গত জাতীয় নির্বাচনের আগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে একাধিকবার মিথ্যা তথ্য ও গুজব ছড়ানো হয়েছে।
বাসসের এমডি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সুযোগ বাড়লেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর অপব্যবহার হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইউটিউব, ভুয়া ওয়েবসাইট ও বিভিন্ন গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য, ধর্মীয় বিদ্বেষ এবং আর্থিক লাভের জন্য গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর অভিযোগ, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নেতাদের কণ্ঠস্বর ও অবয়ব নকল করে উসকানিমূলক পোস্টও দেওয়া হচ্ছে।
দেশে সাইবার সাক্ষরতা বাড়ানোকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, আবেগতাড়িত মিথ্যা তথ্য জনমতকে প্রভাবিত করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। এ জন্য তিনি সব নাগরিককে তথ্য যাচাই করার পাশাপাশি ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ বলেন, এআই ও প্রযুক্তির প্রতি অন্ধভাবে নির্ভরশীল হওয়ার কারণ নেই। তাঁর মতে, এসব প্রযুক্তি অনেক ক্ষেত্রে বিদেশি কোম্পানির স্বার্থে পরিচালিত হয় এবং মানুষের তথ্য ও মনস্তত্ত্ব সংগ্রহ করে। এআই ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দ্রুত নেতিবাচক তথ্য ছড়াতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ফারুক ওয়াসিফ বলেন, মানুষের বিবেক, সহানুভূতি ও মানবিক বোধসম্পন্ন সাংবাদিকতাই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে এবং এ পেশাকে এগিয়ে নেবে।
১৩ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত আয়োজিত তিন দিনের প্রশিক্ষণে গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে তথ্য যাচাই, স্মার্টফোনভিত্তিক মোবাইল সাংবাদিকতা এবং এআই ব্যবহার করে দ্রুত ও নির্ভুল সংবাদ পরিবেশনের কৌশল শেখানো হয়। পাশাপাশি সংবাদে বস্তুনিষ্ঠতা, নিরপেক্ষতা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মানবিক দিক তুলে ধরে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চর্চার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাসসের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মো. ফজলুল হক, প্রধান বার্তা সম্পাদক (ইংরেজি) মো. মানিকুল আজাদ, প্রধান বার্তা সম্পাদক (বাংলা) মুরসালিন নোমানী, চিফ রিপোর্টার (ইংরেজি) জি এম রাজিব হোসেন, চিফ রিপোর্টার (বাংলা) মো. দিদারুল আলম এবং পিআইবির প্রশিক্ষক জিলহাজ উদ্দিন নিপুন।