
প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমানের নারিতা-ঢাকা ফ্লাইটে কারিগরি ত্রুটির ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। কমিটিকে চার কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত ২৯ অক্টোবর জাপানের নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রার আগে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী ফ্লাইট বিজি-৩৭৭-এ কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। এ ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
আজ জারি করা এক অফিস আদেশে কমিটিকে চার কর্মদিবসের মধ্যে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিমানের পরিকল্পনা ও সময়সূচি বিভাগের প্রধানকে। আইনবিষয়ক ব্যবস্থাপক সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। অন্য দুই সদস্য হলেন প্রকৌশল উৎপাদন বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী এবং ফ্লাইট নিরাপত্তা বিভাগের উপপ্রধান।
তদন্ত কমিটিকে কারিগরি ত্রুটির প্রকৃত কারণ ও ধরন নির্ধারণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ত্রুটি শনাক্ত ও সমাধানে কী ধরনের কারিগরি এবং পরিচালনাগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা পর্যালোচনা করবে কমিটি। উড়োজাহাজটির পরবর্তী উড্ডয়ন-যোগ্যতা নিশ্চিত করার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় থাকবে।
এ ঘটনায় ফ্লাইটের বিলম্ব, অতিরিক্ত পরিচালন ব্যয়, যাত্রীদের ভোগান্তি এবং বিমানের প্রাতিষ্ঠানিক সুনামের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়েছে, তা মূল্যায়ন করবে তদন্ত দল।
এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়িত্ব ও ভূমিকা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কমিটিকে। ঘটনার পেছনে কোনো পর্যায়ে অবহেলা, সমন্বয়ের ঘাটতি কিংবা প্রক্রিয়াগত ত্রুটি ছিল কি না, তা নির্ধারণের পাশাপাশি দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার বিষয়টিও তদন্ত করা হবে।
ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের সুপারিশ করবে কমিটি। তদন্তের প্রয়োজনে বিমানের যেকোনো কর্মকর্তাকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ রাখা হয়েছে।
বিমানের প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালক এয়ার কমোডর মো. নিয়ামুল কবির স্বাক্ষরিত অফিস আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।