
চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫১ দশমিক ৬২ শতাংশ। পাসের হার ও উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যায় ছাত্রদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন ছাত্রীরা। সাধারণ বোর্ডগুলোতে ছাত্রদের তুলনায় ৮৫ হাজার ৬৭১ জন বেশি ছাত্রী পাস করেছেন।
চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫১ দশমিক ৬২ শতাংশ। ফলাফলে পাসের হার ও উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যার দিক থেকে ছাত্রদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছেন ছাত্রীরা।
আজ শনিবার সকাল ১১টায় সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরীক্ষার ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন ফলাফলের বিস্তারিত পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১০ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫ লাখ ৪১ হাজার ২৪৯ জন। এ বছর সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে জিপিএ-৫ পেয়েছেন মোট ৩৫ হাজার ৯৪৮ জন।
ছাত্র ও ছাত্রীদের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এ বছর ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ৪ লাখ ৮৩ হাজার ১৯১ জন ছাত্র পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছেন ২ লাখ ২৭ হাজার ৭৮৯ জন। তাঁদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ১৪ শতাংশ।
অন্যদিকে, ৫ লাখ ৬৫ হাজার ৩৩৯ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৩ লাখ ১৩ হাজার ৪৬০ জন। তাঁদের পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ।
সে হিসাবে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে ছাত্রদের তুলনায় ৮৫ হাজার ৬৭১ জন বেশি ছাত্রী পাস করেছেন।
জিপিএ-৫ অর্জনের ক্ষেত্রেও ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছেন। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে মোট ৩৫ হাজার ৯৪৮ জন জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ১৮ হাজার ১৫৫ জন এবং ছাত্রী ১৭ হাজার ৭৯৩ জন।
এ বছর ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৪ হাজার ৬১৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ১ হাজার ৬২৮টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেন। পরীক্ষার নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করে কেন্দ্রীয়ভাবে নজরদারি করা হয়। পাশাপাশি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে কেন্দ্রের প্রবেশদ্বারে পুলিশের শরীরে ধারণযোগ্য ক্যামেরা ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে এ বছর মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন।
সব বোর্ড মিলিয়ে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ২ লাখ ৯০ হাজার ১৫৭ জন এবং ছাত্রী ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫২৮ জন। অর্থাৎ, ছাত্রদের তুলনায় ৬৬ হাজার ৩৭১ জন বেশি ছাত্রী উত্তীর্ণ হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা গ্রহণ, পূর্ণাঙ্গ পাঠ্যসূচি ও পূর্ণ নম্বরে পরীক্ষা আয়োজন এবং সারা দেশে প্রথমবারের মতো অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়া ফলাফল মূল্যায়নে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী গিয়াস উদ্দিন রিমন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব কেরামত আলী, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।