
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আধুনিক বাংলাদেশ গড়তে প্রযুক্তিগত জ্ঞান, উদ্ভাবনী গবেষণা ও মেধাভিত্তিক শিক্ষার বিকল্প নেই। একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার দুপুরে ঢাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ এবং একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার গণ্ডি পেরিয়ে প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও মেধার বিকাশ ঘটাতে হবে। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে উদ্ভাবনী গবেষণা, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার এবং মেধাভিত্তিক শিক্ষা বিস্তারে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও দেশের স্বার্থ ও জনগণের কল্যাণে জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা প্রয়োজন। ‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার আগে জনগণ’ নীতিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। দেশ কেবল ভূখণ্ড কিংবা পতাকার পরিচয় নয়; এর সঙ্গে জনগণের স্বাধিকার ও মালিকানার বিষয়টিও জড়িত।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, শহীদ নাসিরউদ্দিন পিন্টুসহ অন্যান্য ছাত্রনেতার প্রচেষ্টা এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইচ্ছায় ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠানটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে বিএনপি সরকারের আমলে ২০০৫ সালে জাতীয় সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা হয়।
তিনি জানান, বর্তমান ক্যাম্পাসের পাশাপাশি কেরানীগঞ্জে ২০০ একর জমির ওপর স্বতন্ত্র ও আধুনিক আবাসিক সুবিধাসম্পন্ন নতুন ক্যাম্পাস নির্মাণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ সময় শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিদাওয়া পূরণের বিষয়ে সরকারের ইতিবাচক মনোভাবের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শুধু সনদ কিংবা জিপিএ-৫ অর্জন করে একটি জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়। এর জন্য শিক্ষার গুণগত পরিবর্তন এবং গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কেবল কর্মসংস্থানমুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, মুক্তবুদ্ধির চর্চা ও উচ্চতর গবেষণার কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সাধারণ শিক্ষায় উচ্চ ডিগ্রি অর্জনের পর বেকার থাকার পরিবর্তে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার মাধ্যমে তরুণদের দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনশক্তিতে পরিণত করতে হবে। আধুনিক বিশ্বের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে।
সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে উদ্ভাবনী চিন্তা, প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও মেধাভিত্তিক জনশক্তি গড়ে তোলার বিকল্প নেই। সনাতনী ব্যবস্থার পাশাপাশি নতুন ধারণা ও প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতার বিকাশ ঘটাতে হবে।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও দেশপ্রেম ধারণ করে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার মাধ্যমে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু এবং মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল জাতীয় পতাকা উত্তোলন, আনন্দ র্যালি, চারুকলা প্রদর্শনী, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কনসার্ট।