
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, গত ১৭ বছরে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে পঙ্গু ও ধ্বংস করে জাতির মেরুদণ্ড দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে। মেধাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত ফলাফল নিশ্চিত করা জরুরি।
গত ১৭ বছরে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে পঙ্গু ও ধ্বংস করে জাতির মেরুদণ্ড দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
শনিবার দুপুরে কেরানীগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপি আয়োজিত ‘এসএসসি কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রগতির আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা থেকে বাংলাদেশকে নিষ্ক্রিয় রাখার লক্ষ্যেই পরিকল্পিতভাবে এমন শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল। শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড হলেও গত ১৭ বছরে সেটিকে প্লাস্টিকের মেরুদণ্ডে পরিণত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, পরীক্ষা না দিয়েও কিংবা খাতায় শুধু প্রশ্ন লিখে রেখেও ওপর মহলের নির্দেশে পাস করিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এভাবে জোর করে বেশি নম্বর দেওয়া বা পাস করিয়ে দেওয়ায় ব্যক্তি কিংবা জাতি—কারওই কোনো লাভ হয় না।
প্রযুক্তিনির্ভর এই যুগে মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে রিজভী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ভালো ফল না পাওয়া বা পিছিয়ে পড়ার ঘটনা বিচ্ছিন্ন কোনো বিষয় নয়। পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে যে ছেলেখেলা করা হয়েছে, এরই প্রতিফলন এসব ফলাফলে দেখা গেছে। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে মেধার ভিত্তিতেই প্রকৃত ফলাফল দেওয়া হচ্ছে, যা একটি জাতির জন্য অত্যন্ত জরুরি।
নারী শিক্ষার প্রসারে বিএনপির অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, নারী ক্ষমতায়নের প্রধান শর্ত শিক্ষা। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছাত্রীদের জন্য ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালু করেছিলেন। আর বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন, আগামীতে বিএ ও অনার্স পর্যন্ত ছাত্রীদের পড়াশোনার কোনো খরচ লাগবে না এবং তা সম্পূর্ণ অবৈতনিক করা হবে।
এ সময় সামাজিক ও স্থানীয় পর্যায়ে দায়িত্বশীল নেতৃত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন রিজভী। দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের কৃতি শিক্ষার্থীদের একত্রিত করে সম্মাননা দেওয়ার উদ্যোগকে তিনি ‘দৃষ্টান্তমূলক কাজ’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আজকের এই অর্জন তোমাদের জীবন অধ্যায়ের নতুন সূচনা। সততা, দায়িত্বশীলতা ও দেশপ্রেম নিয়ে তোমাদের আগামী দিনের বাংলাদেশের কাণ্ডারী হতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ঢাকা-৩ আসনের শিক্ষার্থীরা শুধু দেশেই নয়, বিশ্ব দরবারেও নিজেদের মেধা ও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে কেরানীগঞ্জের নাম উজ্জ্বল করবে—এটাই প্রত্যাশা। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে এলাকার প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নিরাপদ, সুন্দর ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ হিসেবে গড়ে তোলার কথাও বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ঢাকা-৩ আসনে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ ও গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা স্মারক, ক্রেস্ট ও বৃত্তির অর্থ তুলে দেওয়া হয়।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষক, কৃতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।