
মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে শাহ আলী থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এ পর্যন্ত নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
আজ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ওসির দায়িত্ব পালনে অবহেলার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, রাড্ডা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তদন্তে যারা এ ঘটনায় জড়িত বলে শনাক্ত হবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বেশ কিছু সামগ্রী উদ্ধার করেছে। উদ্ধার করা এসব সামগ্রী আলামত হিসেবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
এদিকে, রাড্ডা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ডিএমপি এখন পর্যন্ত নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের এক সংক্ষিপ্ত বার্তায় বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে লুট হওয়া দুই ট্রাকভর্তি মালামালও উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও তদন্ত চলছে এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত দুই শতাধিক মুখোশধারী ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করে দুই নিরাপত্তা প্রহরীকে জিম্মি করেন। পরে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার আগে চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, টিকা, নগদ অর্থসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী লুট করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় শাহ আলী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রাজধানীর জাসদ কার্যালয়ে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত একটি বৈঠক ও পুলিশি অভিযান প্রসঙ্গেও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, ওই কার্যালয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কয়েকজন সদস্য একত্রিত হয়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছিলেন। ওই তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়।
মন্ত্রী বলেন, প্রাথমিকভাবে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বেশিরভাগকেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ২৭ জনকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, উদ্ধার করা মোবাইল ফোনগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে। নাশকতায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে। কাউকে অযথা হয়রানি করার উদ্দেশ্যে অভিযানটি চালানো হয়নি বলেও তিনি জানান।