
বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিবেশে বিনিয়োগের সুযোগ তুলে ধরে ইউরোপের বিভিন্ন দেশকে দেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বঙ্গভবনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য সাতটি দেশের রাষ্ট্রদূত এবং ইইউ প্রতিনিধিদলের প্রধানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, স্পেন ও সুইডেনের রাষ্ট্রদূত এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ প্রতিনিধিদলের প্রধান। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারা মির্জা ফখরুল ইসলামকে অভিনন্দন জানান। অভিনন্দনের জন্য রাষ্ট্রপতি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাসসকে এসব তথ্য জানান।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিবেশে বিনিয়োগের সুযোগের কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলোর বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশের সঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্কের ধারাবাহিক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ অংশীদারত্ব বর্তমানে বহুমাত্রিক রূপ নিয়েছে।
বাংলাদেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক উত্তরণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং এর সদস্য দেশগুলোর অব্যাহত সহযোগিতা ও অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে বিদ্যমান সুসম্পর্ক আরও গভীর করার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।
অবৈধ অভিবাসন ও মানব পাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে মির্জা ফখরুল দক্ষ জনশক্তির জন্য বৈধ অভিবাসনের সুযোগ আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান। পাশাপাশি আরও ইইউ সদস্য রাষ্ট্রকে ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ উদ্যোগে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্রদূতরা পারস্পরিক আস্থা, বন্ধুত্ব ও অংশীদারত্ব আরও জোরদারে বর্তমান সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। বাণিজ্য, সুশাসন, জলবায়ু কার্যক্রম ও টেকসই উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তারা।
বাংলাদেশ ও ইইউভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সমান সুযোগ তৈরির গুরুত্বও তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূতরা। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সাংবিধানিক, বিচার বিভাগীয় ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার উদ্যোগে অব্যাহত সম্পৃক্ততা ও সহযোগিতার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তারা।
এ বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। রাষ্ট্রপতি কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য ইইউর অব্যাহত ও বর্ধিত মানবিক সহায়তা কামনা করেন। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের উপযোগী পরিবেশ তৈরিতে ইইউকে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় রাষ্ট্রদূতরা এ বিষয়ে তাদের সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানান।
সাক্ষাৎকালে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সবুজ রূপান্তর, অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা, সামুদ্রিক বিষয়াবলি ও প্রযুক্তি হস্তান্তর নিয়েও মতবিনিময় হয়।
উভয় পক্ষ গণতন্ত্র, মানবাধিকার, বহুপাক্ষিকতা, আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা সমুন্নত রাখা এবং বহুপক্ষীয় ফোরামগুলোতে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
ইইউ রাষ্ট্রদূতরা রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানান এবং বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্ব আরও গভীর করার বিষয়ে ইইউর প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ প্রতিনিধিদলের প্রধান রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার, ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে, জার্মানির রাষ্ট্রদূত রুডিগার লৎস, ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তেনিও আলেসান্দ্রো, নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত ইউরিছ ভান বোসেল, স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল মারিয়া সিসতিয়াগা ওচহোয়া ডি চিনচিত্রু এবং সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইক্স উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক উপস্থিত ছিলেন।