
পুত্র বা কন্যাসন্তানকে যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে ছোটবেলা থেকেই শরীর, ব্যক্তিগত অঙ্গ, সম্মতি ও সমতার বিষয়ে বয়সোপযোগীভাবে কথা বলার পরামর্শ দিয়েছেন অভিনেত্রী দিয়া মির্জা।
পুত্র হোক বা কন্যাসন্তান—বাবা-মায়ের উচিত তাঁদের যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এমন মত জানিয়েছেন অভিনেত্রী দিয়া মির্জা।
সাক্ষাৎকারে দিয়া বলেন, শিশুদের যৌনতা ও ব্যক্তিগত অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সম্পর্কে খোলামেলা কথা বলার সুযোগ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। তাঁর ছেলে অভ্যানের বয়স এখন পাঁচ বছর।
দিয়া বিশ্বাস করেন, সমতা ও সম্মানের ভিত্তি পরিবার থেকেই তৈরি হয়। বাড়ির পুরুষ সদস্যরা নারীদের কীভাবে সম্মান করেন এবং ঘরের কাজ কীভাবে ভাগ করে নেন, শিশুরা তা লক্ষ্য করে। তাই ছোটবেলা থেকেই শিশুদের নিজেদের শরীর ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নিয়ে লজ্জা না পেয়ে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে শেখানো উচিত বলে মনে করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সন্তানদের ফ্যান্টাসি, যৌনতা ও পর্নোগ্রাফি নিয়েও খোলামেলা আলোচনা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে পুত্রসন্তানদের এমনভাবে বড় করা উচিত, যাতে তারা বুঝতে পারে—‘সম্মতি’ শুধু ‘না’ না বলার বিষয় নয়; বরং তা হতে হবে স্বতঃস্ফূর্ত ‘হ্যাঁ’।
দিয়ার মতে, কারও অন্তরঙ্গতা পাওয়ার জন্য জোর করা যায় না এবং প্রত্যাখ্যান কোনো লজ্জার বিষয় নয়। নারীদের প্রতি অসম্মান দেখলে ছেলেদের প্রতিবাদ করতে শেখানোর কথাও বলেন তিনি।
অভিনেত্রীর মতে, সমাজ ও পরিবারে সচেতনতা তৈরি হলেই একটি নিরাপদ ও সমতার পৃথিবী গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি বলেন, বাড়িতে লিঙ্গ সাম্যের একটি উদাহরণ তৈরি করা এবং বয়সোপযোগী ও প্রাসঙ্গিক প্রয়োজনীয় আলোচনা করা—এর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা। যেমন, একটি শিশুকে তার শরীরের গঠন বা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সম্পর্কে স্বচ্ছন্দ হতে শেখানো। লিঙ্গ বা গোপনাঙ্গকে তার সঠিক নামে ডাকা এবং গোপনাঙ্গের প্রতি কোনো ধরনের লজ্জা বা অপরাধবোধ তৈরি না করা।