অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : Sep 1, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের রূপকার কামরুল ইসলাম সিদ্দিকের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বরেণ্য প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম সিদ্দিকের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। নগর ও আঞ্চলিক পরিকল্পনাবিদ হিসেবে তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনারই অন্যতম ফসল স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।


বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বরেণ্য প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম সিদ্দিকের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ সোমবার (১ সেপ্টেম্বর)। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের রূপকার হিসেবে পরিচিত এই প্রকৌশলী ছিলেন একাধারে নগর ও আঞ্চলিক পরিকল্পনাবিদ। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করতে তিনি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নেন।

প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম সিদ্দিকের পরিকল্পনা ও প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতায় গড়ে ওঠে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে তাঁর নিরলস ভূমিকার কারণে তিনি অবকাঠামো উন্নয়নের প্রবাদপুরুষ হিসেবে পরিচিতি পান।

কামরুল ইসলাম সিদ্দিক ১৯৪৫ সালের ২০ জানুয়ারি কুষ্টিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। কৃষিচিন্তক প্রয়াত নূরুল ইসলাম সিদ্দিক ও রত্নগর্ভা মা বেগম হামিদা সিদ্দিকের দ্বিতীয় সন্তান তিনি। তাঁর শৈশব ও শিক্ষাজীবনের প্রথম অধ্যায় কাটে লালন শাহ, রবীন্দ্রনাথ ও মীর মশাররফ হোসেনের স্মৃতিধন্য কুষ্টিয়ায়।

মেধাবী কামরুল ইসলাম সিদ্দিক ১৯৬৬ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেন। পরের বছর ১৯৬৭ সালে কুষ্টিয়া জেলা পরিষদে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি জীবন গড়ার স্বপ্ন ছেড়ে দেশের স্বাধীনতার জন্য অস্ত্র হাতে তুলে নেন। নয় মাসের মুক্তিসংগ্রামের পর বিজয় অর্জিত হলে তিনি নতুন করে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করেন।

১৯৭৭ সালে যুক্তরাজ্যের শেফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানিংয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। পরবর্তীতে এলজিইডির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

কামরুল ইসলাম সিদ্দিক ছিলেন দক্ষ ব্যবস্থাপক ও উদ্ভাবনী চিন্তার অধিকারী। কর্মজীবনে তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান, ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি)-এর সভাপতি এবং ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এ ছাড়া ২০০৩-২০০৪ মেয়াদে তিনি গ্লোবাল ওয়াটার পার্টনারশিপের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের প্রথম চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।

২০০৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর কর্মচঞ্চল এই প্রকৌশলী ও মুক্তিযোদ্ধা শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। আমৃত্যু নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা প্রচারবিমুখ কামরুল ইসলাম সিদ্দিক তাঁর কর্মের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষের মাঝে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন রাষ্ট্র

1

সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের প্র

2

তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

3

এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটে স্বর্ণপদক চায় বাংলাদেশ

4

জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত ছয় বাংলাদেশি শান্তির

5

এপেক সম্মেলনের আগে কিমের সঙ্গে বৈঠকে আগ্রহী ট্রাম্প, সম্ভাবন

6

জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

7

ডেঙ্গু প্রতিরোধে পাড়া-মহল্লায় মাইকিংয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্র

8

গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের রূপকার কামরুল ইসলাম সিদ্দিকের ১৮তম

9

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃ

10

স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করলে কঠোর ব্যবস্থা:

11

এআইতে সংবাদ ব্যবহারে গুগলের ওপর নতুন নিয়ন্ত্রণ

12

ঢাকার যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর

13

১৫ বছর পর অশ্বিন-জাদেজাহীন ভারত

14

জাতীয় প্রতিযোগিতায় সেরা তরুণদের জাতিসংঘে পাঠাবে সরকার: মাহ্দ

15

প্রতি তিন ওয়ার্ডে একটি খেলার মাঠ নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের

16

বাংলাদেশে ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগে আগ্রহী জাপান, ২ লাখ কর্মস

17

নেপালে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে

18

উপকূলীয় ১৪ জেলার সুরক্ষায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

19

তিস্তা প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা দিতে চায় নেদারল্যান্ডস

20