অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : Nov 1, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

উচ্চশিক্ষায় আসন সংকট নেই, সাড়ে ৬ লাখ উত্তীর্ণের বিপরীতে প্রায় ১৫ লাখ আসন

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তির জন্য প্রায় ১৫ লাখ আসন রয়েছে। বিপরীতে এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন শিক্ষার্থী। ফলে সামগ্রিকভাবে উচ্চশিক্ষায় ভর্তির ক্ষেত্রে আসন সংকটের আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সদ্য প্রকাশিত উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের স্নাতক (সম্মান) শ্রেণিতে ভর্তির জন্য পর্যাপ্ত আসন রয়েছে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং অধিভুক্ত কলেজ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে মোট ১৪ লাখ ৯২ হাজার ২৮৮টি আসনে ভর্তির সুযোগ থাকছে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এ বছর এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন।

এদিকে, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক পর্যায়ে ভর্তির জন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, অধিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে আসন রয়েছে ১৪ লাখ ৯২ হাজার ২৮৮টি। উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর তুলনায় এ সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি।

এ বিষয়ে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বাসসকে বলেন, এ বছর পাস করা শিক্ষার্থীর তুলনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য পর্যাপ্ত আসন রয়েছে। উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১৫ লাখ আসন থাকলেও উত্তীর্ণ হয়েছেন প্রায় সাড়ে ৬ লাখ শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজস্ব মানদণ্ড ও নীতিমালা অনুসরণ করে শিক্ষার্থী ভর্তি করবে।

তিনি আরও বলেন, ‘উচ্চশিক্ষার জন্য আসন সংকট থাকবে না। শিক্ষার্থীরা তাদের পছন্দের ক্ষেত্রে যোগ্যতা অনুযায়ী ভর্তির সুযোগ পাবে।’

ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশের ৬১টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও সেগুলোর অধিভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ১০৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ১৪ লাখ ৯২ হাজার ২৮৮টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত কলেজ-ইনস্টিটিউটগুলোতে আসন সংখ্যা ১০ লাখ ৮২ হাজার ২৮৮টি।

সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজস্ব ক্যাম্পাসে সরাসরি ভর্তির জন্য আসন রয়েছে ৬৩ হাজার ৬৫৬টি। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬ হাজার ১২৫টি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ হাজার ৯৫৬টি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪ হাজার ৩৩টি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৮৪৮টি এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ হাজার ৫১৫টি আসন রয়েছে। অন্যান্য সাধারণ ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসন রয়েছে।

প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ১ হাজার ৩০৯টি, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) ৯৩১টি, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) ১ হাজার ২৩৫টি, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) ১ হাজার ১০৫টি এবং ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) ৭৮০টি আসন রয়েছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ হাজার ৩৪টি এবং শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭০৫টি আসন রয়েছে।

সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসন রয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজগুলোতে। এসব কলেজে আসন সংখ্যা ৯ লাখ ৪৬ হাজার ৯৫টি। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪২ হাজার ৪৩৪টি এবং ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত মাদ্রাসাগুলোতে ১১ হাজার ৫৫টি আসন রয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে মোট আসন রয়েছে ১১ হাজার ২৯০টি।

চিকিৎসাশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর আসনসংখ্যার বিষয়ে ইউজিসির তথ্যে বলা হয়েছে, দেশের ৩৭টি সরকারি মেডিক্যাল কলেজে ৫ হাজার ১০০টি এবং ৭২টি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে ৬ হাজার ১টি আসন রয়েছে। এ ছাড়া ৯টি সরকারি ডেন্টাল কলেজে ৫৪৫টি, ২৮টি বেসরকারি ডেন্টাল কলেজে ১ হাজার ৪৯০টি এবং আর্মড ফোর্সেস মেডিকেলে ৩৭৫টি আসন রয়েছে।

শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সামগ্রিকভাবে উচ্চশিক্ষায় আসন বেশি থাকলেও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস এবং সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোতে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা হবে। বিশেষ করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসের ৬৩ হাজার ৬৫৬টি আসন এবং সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোর সীমিত আসনকে কেন্দ্র করে প্রতিযোগিতা বেশি থাকবে।

এ বছর ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাওয়ায় তাঁদের মধ্যে প্রথম সারির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, বিশেষায়িত প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির জন্য প্রতিযোগিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং দেশের ১০৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু আসন খালি থাকার আশঙ্কা রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা নিজেদের পছন্দ ও সামর্থ্য অনুযায়ী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির সুযোগ পাবেন।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

টাইব্রেকারে সেশেলসকে হারিয়ে বাংলাদেশের কিশোরদের জয়

1

বাংলাদেশে কানাডার বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির

2

প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে ৯ মাসে ৪১০টি অপতথ্য ছড়ানো হয়েছে: প্রেস

3

কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী ৬৪ জেলায় শতভাগ সার বরাদ্দ

4

প্রতিরোধভিত্তিক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা গড়ছে বাংলাদেশ: ডা. জু

5

বিশ্বকাপের বাঁশি বাজাতে রেফারিদের কঠিন অগ্নিপরীক্ষা

6

২০২৭ সালের পাঠ্যবইয়ে জিয়াউর রহমানের ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃত

7

ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুত -স্বাস্থ্যমন্ত্রী

8

জঘন্য অপরাধের ঘটনায় দ্রুততম সময়ে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছ

9

প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফর ঘিরে উচ্ছ্বসিত নগরবাসী: ভূমিমন্ত্

10

রিয়ালের বিদায় ঘণ্টা বাজিয়ে সেমিতে বায়ার্ন

11

শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: মঈন খান

12

নেপালে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে

13

বাংলাদেশে সমন্বিত ক্যান্সার চিকিৎসাব্যবস্থা গড়ার অঙ্গীকার বি

14

যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

15

বাহরাইনে নিহত প্রবাসী বাংলাদেশি গিরিশ চন্দ্র সূত্রধরের মরদেহ

16

একনেকে ১০ উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন, অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে প্

17

নাগরিকদের জন্য ‘দক্ষিণের জানালা’ খুললো ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্প

18

ওয়াসার প্রকল্পে দুই মাসে অগ্রগতি না হলে ব্যর্থ কর্মকর্তাদের

19

১৫ বছর পর অশ্বিন-জাদেজাহীন ভারত

20