অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : Sep 24, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

প্রতিরোধভিত্তিক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা গড়ছে বাংলাদেশ: ডা. জুবাইদা

রোগ প্রতিরোধ, প্রাথমিক শনাক্তকরণ ও ধারাবাহিক সেবাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাংলাদেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমান।

চিকিৎসাকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার পরিবর্তে রোগ প্রতিরোধ, রোগের প্রাথমিক শনাক্তকরণ ও ধারাবাহিক সেবাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা পুনর্বিন্যাস করছে বাংলাদেশ। এ রূপান্তরের কেন্দ্রে রাখা হচ্ছে শক্তিশালী ফ্রন্টলাইন স্বাস্থ্যকর্মী, পেশাদার ধাত্রী এবং ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবাকে।

জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ‘প্রতিশ্রুতি থেকে পদক্ষেপ: প্রতিরোধযোগ্য মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু বন্ধে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় ধাত্রীবিদ্যাকে একীভূতকরণ’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন ডা. জুবাইদা রহমান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ‘সুস্থ বাংলাদেশ’-এর স্বপ্ন হলো চিকিৎসাকেন্দ্রিক ব্যবস্থা থেকে এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থায় যাওয়া, যেখানে রোগ প্রতিরোধ, রোগের প্রাথমিক শনাক্তকরণ ও ধারাবাহিক সেবাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।

ডা. জুবাইদা রহমান জানান, গ্রাম থেকে শহরের ওয়ার্ড পর্যন্ত বিস্তৃত একটি সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার দিকে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। এর সঙ্গে শক্তিশালী ফ্রন্টলাইন স্বাস্থ্যকর্মী ও ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা যুক্ত থাকবে। এই রূপান্তরের কেন্দ্রে রয়েছে নারী ও শিশুরা।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ২৫ হাজার পেশাদার ধাত্রী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে এ উদ্যোগের লক্ষ্য শুধু ধাত্রীর সংখ্যা বাড়ানো নয়; তাদের বহুমুখী দক্ষতাসম্পন্ন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দলের সঙ্গে একীভূত করাই এর উদ্দেশ্য।

ডা. জুবাইদা বলেন, গর্ভধারণের আগের সময় থেকে গর্ভাবস্থা, সন্তান প্রসব, প্রসব-পরবর্তী সময় এবং নবজাতকের সেবা পর্যন্ত ধারাবাহিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ধাত্রীদের বহুপেশাজীবীর সমন্বয়ে গঠিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দলের অংশ করা হবে।

আলোচনায় উপস্থাপিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা মডেলে মাতৃস্বাস্থ্যসেবার পুরো প্রক্রিয়ায় ধাত্রীদের কেন্দ্রীয় ভূমিকা রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে বিচ্ছিন্ন সেবার কাঠামো থেকে একটি সমন্বিত ও জবাবদিহিমূলক প্ল্যাটফর্মে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পরিবার ও কমিউনিটিকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। প্রয়োজন হলে কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গেও সংযুক্ত করা হবে।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ধাত্রী-নেতৃত্বাধীন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা বাংলাদেশের জন্য তিনটি অগ্রাধিকার এগিয়ে নিতে পারে। এগুলো হলো—উন্নততর স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার, শক্তিশালী আর্থিক সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবায় অধিকতর সুফল।

তিনি বলেন, এ ব্যবস্থার মাধ্যমে নারীদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা আরও কাছে পৌঁছে দেওয়া, নিজস্ব অর্থে স্বাস্থ্য ব্যয়ের চাপ কমানো এবং সঠিক সময়ে সঠিক স্থানে মর্যাদাপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব।

তার ভাষ্য, বাংলাদেশের এই উদ্যোগ উন্নয়নকে মানুষের কেন্দ্রস্থলে রেখে প্রতিরোধ, মর্যাদা ও প্রবেশাধিকারের ভিত্তিতে একটি আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার বৃহত্তর প্রচেষ্টার প্রতিফলন।

তিনি বলেন, এ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো নারীরা যেন মাতৃত্বের পুরো সময়জুড়ে ধারাবাহিক স্বাস্থ্যসেবা পান এবং বিভিন্ন পর্যায়ে বিচ্ছিন্ন সেবা নিতে আলাদাভাবে বিভিন্ন স্থানে যেতে না হয়।

ডা. জুবাইদা বলেন, প্রত্যেক নারীর বাসস্থানের কাছাকাছি তার প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দলের অংশ হিসেবে একজন দক্ষ পেশাদার ধাত্রীর সেবা পাওয়ার সুযোগ থাকা উচিত।

তিনি আরও বলেন, নিজ নিজ স্বাস্থ্যব্যবস্থার উপযোগী সমাধান তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ যেন একে অপরের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে পারে, এ উদ্যোগ সেই সুযোগও তৈরি করবে।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, পেশাদার ধাত্রীরা জীবন রক্ষা করেন। এখন এমন স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন, যা তাদের কার্যকরভাবে, সমতার ভিত্তিতে এবং টেকসইভাবে এ কাজ করার সক্ষমতা তৈরি করবে।

আলোচনাকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দিতে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী ও বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সম্প্রদায়ের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময় অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ সরকার আগ্রহী বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে সিয়েরা লিওন, নেপাল, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এছাড়া জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, পেশাজীবী সংগঠন, নাগরিক সমাজ এবং বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেন।

সুইডেন সরকার ও ইউএনএফপিএর অংশীদারিত্বে এ উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কর্ণফুলী ইপিজেডের কারখানায় সবুজের ছায়ায় শ্রমিকদের স্বস্তি

1

RDMS চালু করল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

2

তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে দ্যা ডেভেলোপমেন্ট টাইমসের গভীর

3

টয়োটার প্রথম প্রাইভেটকারে উঠলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

4

বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার প্রত্যাশা এলজি

5

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে হেফাজতের প্রতিনিধি দলের সৌজন্য সাক্ষাৎ

6

কেন্দ্রীয় মুরগি খামারে বাচ্চা উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ প্রতিমন

7

মোংলা বন্দর ও বেজা অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনে খুলনা-বাগেরহাট

8

সাইবার হামলার আশঙ্কায় সাময়িক বন্ধ এনআইডি সার্ভার

9

গুমের শিকারদের ন্যায়বিচার ও পুনর্বাসন নিশ্চিতের দাবি রিজভীর

10

যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

11

ডেটা সেন্টার নির্মাণে ৪২০ ফুটবল মাঠের সমান বন উজাড়, ফিনল্যান

12

আগস্টে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১০.৫৩ শতা

13

স্বৈরাচারের ফেরার পথ তৈরি করা শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি: প্রধান

14

টেকসই উন্নয়নে বিএসটিআই আরও শক্তিশালী করার ঘোষণা শিল্পমন্ত্রী

15

পুলিশের ভাবমূর্তি রক্ষা ও ক্ষমতার অপব্যবহার না করার নির্দেশ

16

এআই ছবিতে বেলজিয়ামের মন্ত্রীকে কটাক্ষ, মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে

17

অ্যানিমেটেড সিরিজে এবার মেসি

18

প্রতিরোধভিত্তিক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা গড়ছে বাংলাদেশ: ডা. জু

19

ডেঙ্গু প্রতিরোধে নারায়ণগঞ্জে জেলা প্রশাসনের জনসচেতনতামূলক র‌

20