অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : Aug 31, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

RDMS চালু করল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসনের শিকার বাংলাদেশি নাগরিকদের বিদেশ থেকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া আরও কার্যকর ও সমন্বিত করতে আজ রিপ্যাট্রিয়েশন ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (RDMS) চালু করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

আজ সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বোর্ডরুমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক ও বহিরাগমন) ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ এর সভাপতিত্বে জাস্টিস এন্ড কেয়ার, বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রিপ্যাট্রিয়েশন ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (RDMS)-এর উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন স্পেশাল ব্রাঞ্চ বাংলাদেশের প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি সরদার নুরুল আমিন, স্পেশাল ব্রাঞ্চের ডিআইজি, এসসিও (SCO) জাহাঙ্গীর হোসেন ও অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশনের কাউন্সেলর রুবেন গ্রে (Ruben Grey)। স্বাগত বক্তৃতা করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান। RDMS সিস্টেম এর উদ্দেশ্য ও সুবিধা সম্পর্কে আলোকপাত করেন জাস্টিস এন্ড কেয়ার, বাংলাদেশ এর কান্ট্রি ডিরেক্টর তারিকুল ইসলাম।

সভাপতির বক্তব্যে ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ মানবপাচার প্রতিরোধ ও উদ্ধারকৃতদের পুনরেকত্রীকরণ প্রক্রিয়া বেগবান করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডোমেইনে রেফারাল ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (আরডিএমএস) অন্তর্ভুক্ত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ফেরত আসা ব্যক্তি ও সারভাইভারদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংরক্ষণে আরডিএমএস প্ল্যাটফর্মটি ইতোমধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ডাটাবেজের সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাছাড়া শিশুদের নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে এটিকে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের পাশাপাশি পাসপোর্ট সেবার সাথে সমন্বিত করার কাজ চলমান রয়েছে। অবৈধ অভিবাসন রোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) নিরলস প্রচেষ্টার প্রশংসা করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আন্তঃসংস্থার সমন্বিত এ উদ্যোগ সারভাইভারদের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং অবৈধ অভিবাসন বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার বাংলাদেশ এর কারিগরি সহায়তায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় RDMS তৈরি করেছে। সিস্টেমটির উন্নয়ন ও আপগ্রেডেশনে অস্ট্রেলিয়া সরকার সহায়তা করেছে। এটি একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, যার মাধ্যমে মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসনের শিকার বাংলাদেশি নাগরিকদের বিদেশে থেকে দেশে ফেরানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য ব্যবস্থাপনা ও বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও সহজ ও কার্যকর হবে।

মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের শিকার ব্যক্তিসহ বিদেশে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় একাধিক সরকারি সংস্থার সম্পৃক্ততা থাকে। এ প্রক্রিয়ায় জাতীয়তা যাচাই, পুলিশ রেকর্ড যাচাই, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত এবং সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করতে হয়। প্রচলিতভাবে এসব কাজের বড় একটি অংশ কাগজপত্র ও চিঠিপত্রের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় অনেক সময় প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হয়।

অনুষ্ঠানে জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশ RDMS-এর গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরে। উপস্থাপনায় দেখানো হয়, কীভাবে এই সিস্টেমের মাধ্যমে প্রত্যাবাসন-সংক্রান্ত মামলার তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো, জাতীয়তা ও পুলিশ রেকর্ড যাচাই আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা এবং তথ্যের নির্ভুলতা, স্বচ্ছতা ও সহজে অনুসরণযোগ্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে সিস্টেমটি প্রত্যাবাসন-সংক্রান্ত তথ্য দ্রুত পাওয়া এবং রিয়েল-টাইমে অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ ও প্রতিবেদন তৈরির সুযোগ দেবে।

RDMS-এর মাধ্যমে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি হাইকমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো আরও নির্ধারিত ও সমন্বিত পদ্ধতিতে প্রত্যাবাসনের আবেদন করতে পারবে। জাতীয়তা যাচাইয়ের সময় প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদানও আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল তথ্য নিরাপদভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও সিস্টেমে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

RDMS চালুর মাধ্যমে তথ্য ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করা, সরকারি বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিশ্রুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন ঘটেছে। এই সিস্টেম বিদেশ থেকে দেশে ফেরা বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য আরও সমন্বিত, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

RDMS উন্নয়ন ও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে অবদানের জন্য বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ, জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার, বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া সরকার এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অংশীজনকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও হাইকমিশনের প্রতিনিধিরা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পুলিশ বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

1

১৫ বছর পর অশ্বিন-জাদেজাহীন ভারত

2

জলবায়ু অর্থায়ন কমিটির সভাপতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

3

বেনজীরকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

4

ঢাকা–কুমিল্লা বিকল্প মহাসড়কের প্রস্তাব, নতুন সম্ভাবনার দ্বার

5

গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের রূপকার কামরুল ইসলাম সিদ্দিকের ১৮তম

6

দিল্লিতে প্রশিক্ষিত ২৬০০ আমলার ওপর নজরদারি

7

গাকৃবিতে নিরাপদ ক্যাম্পাস বির্নিমাণে প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

8

এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটে স্বর্ণপদক চায় বাংলাদেশ

9

গণতন্ত্র ও জনকল্যাণে নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান সালাহউদ্দিনের

10

শহীদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী

11

২০২৭ সালের পাঠ্যবইয়ে জিয়াউর রহমানের ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃত

12

ঢামেকে উদ্বেগজনক চিত্র: ২০২৫ সালে ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে ১,১০০

13

সিদ্ধিরগঞ্জে বিশেষ অভিযানে আওয়ামী লীগ–যুবলীগের ৫ নেতাকর্মী গ

14

শিল্প-কলকারখানা মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে আগের মত গ্যাস পাবে: প্

15

তারেক রহমান: বিভ্রান্তি ছড়িয়ে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে

16

গ্রামীণ অবকাঠামোর টেকসই উন্নয়নে নিরলস কাজ করছে কুমিল্লা এলজি

17

লোটাস লাইটে বদলে গেছে বরিশালের চৌমাথা লেকের রাতের দৃশ্য

18

স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিযোগিতামূলক: ত

19

টিবি হাসপাতালকে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ ইনস্টিটিউটে রূপান্তর

20