সাত মাস ধরে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধে তেহরানের সর্বশেষ প্রস্তাবের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক জবাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সেই জবাবে কী বলা হয়েছে বা প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে কি না, তা জানায়নি ইরান।
সাত মাস ধরে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে তেহরানের দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাবের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক জবাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ইরানি কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। খবর এপির।
তবে মার্কিন জবাবে কী বলা হয়েছে কিংবা সেটি ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের বার্তা কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি ইরানি কর্মকর্তারা। এর কয়েক দিন আগেই যুদ্ধ বন্ধে ইরানের প্রস্তাব প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানান, মন্ত্রিসভার বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের জবাবটি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কাছে তুলে ধরেন।
পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমরা চুক্তিটি বাস্তবায়নের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাব এবং ইরানি জনগণের অধিকার রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান নেব। চুক্তিটি এখন অবশ্যই উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক কৌশলের ওপর ভিত্তি করে হতে হবে।’
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফর করেছিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সেখানে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনার পাশাপাশি কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গেও ইরানি কর্মকর্তারা বৈঠক করেন। নিউইয়র্ক থেকে আরাগচি ফিরে আসার পরই মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আরাগচি ও তার প্রতিনিধিদলকে নির্ধারিত সময়ের আগেই নিউইয়র্ক ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপর গত মঙ্গলবার ভোরে তারা নিউইয়র্ক ত্যাগ করেন।
নিউইয়র্ক সফর এবং সেখানে অনুষ্ঠিত বৈঠক সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে অবহিত করেন আরাগচি। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের শর্তগুলোর বিষয়ও ছিল। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এসব শর্ত জানানো হয়েছিল বলে জানান মোহাজেরানি।
গত সপ্তাহে আরাগচি জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে তিনি একটি প্রস্তাব দিয়েছেন। এতে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার, আটকে থাকা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা এবং ইরানি তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার শর্ত ছিল।
তবে ওই প্রস্তাব দ্রুত প্রত্যাখ্যান করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরান একটি চুক্তি করতে চাইছে, কারণ তারা ‘খুব বাজেভাবে হেরে যাচ্ছে’; তবে তাদের দেওয়া প্রস্তাব ‘গ্রহণযোগ্য হবে না’।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ট্রাম্প প্রকাশ্যে প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করলেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা বা চুক্তিতে পৌঁছাতে মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টা অব্যাহত ছিল।
এর মধ্যে গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় বিশ্বজুড়ে কয়েকজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তাদের বিরুদ্ধে ইরানের সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের প্রক্রিয়ায় আর্থিক সহায়তা বা সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ইরান, হংকং ও পাকিস্তানে থাকা ১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর এসব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সাত মাসের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য অস্ত্র ও অস্ত্রের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সংগ্রহের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন