গাবতলী থেকে নিউমার্কেট হয়ে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রোরেল লাইন-২ নির্মাণে বিশ্বব্যাংকের কাছে অর্থায়ন চেয়েছে সরকার। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা বা প্রায় ৪ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন ডলার।
ঢাকার গণপরিবহনব্যবস্থা সম্প্রসারণে গাবতলী থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত মেট্রোরেল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে এমআরটি লাইন-২ প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য বিশ্বব্যাংকের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) তথ্য অনুযায়ী, ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মেট্রোরেল নির্মাণে আনুমানিক ৬০ হাজার ৮৩৭ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। ডলারের হিসাবে এর পরিমাণ প্রায় ৪ দশমিক ৯৫ বিলিয়ন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের জন্য নতুন কান্ট্রি প্রোগ্রাম প্রস্তুত করছে বিশ্বব্যাংক। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে গত সেপ্টেম্বর থেকে আলোচনা চলছে। নভেম্বরে আলোচনা শেষ হলে প্রকল্পটির অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা শুরু হবে।
এমআরটি লাইন-২-এর প্রাথমিক প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, গাবতলী থেকে মেট্রোরেলটির যাত্রা শুরু হবে। এরপর ঢাকা উদ্যান, বসিলা মোড়, মোহাম্মদপুর বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ড, ধানমন্ডি ১৫ (জিগাতলা), সায়েন্সল্যাব, নিউমার্কেট, আজিমপুর, লালবাগ, চকবাজার, মিটফোর্ড, নয়াবাজার, ধোলাইখাল, দয়াগঞ্জ, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, সাইনবোর্ড, ভুইগড়, চাষাঢ়া ও শিবু মার্কেট হয়ে নারায়ণগঞ্জে গিয়ে শেষ হবে লাইনটি।
কর্মকর্তারা জানান, গত ২০ সেপ্টেম্বর প্রকল্প প্রস্তাবটি অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী অনুমোদন করেন। এরপর প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থায়নের অনুরোধ জানিয়ে বিশ্বব্যাংকের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠায় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ।
প্রস্তাবিত এই মেট্রোরেল লাইনের সঙ্গে গাবতলীতে এমআরটি লাইন-৫-এর উভয় রুটের সংযোগ থাকবে। এ ছাড়া কমলাপুর মেট্রোস্টেশনে এমআরটি লাইন-৬, লাইন-১ ও লাইন-৪-এর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। সাইনবোর্ড হবে এমআরটি লাইন-৪-এর সংযোগস্থল।
গত কয়েক বছরে মেট্রোরেল নির্মাণ প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি তুলনামূলক ধীর থাকলেও বর্তমান সরকার এগুলোর দ্রুত বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিচ্ছে। রাজধানী ঢাকায় মোট ছয়টি মেট্রোরেল লাইন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
এর মধ্যে জাপানের অর্থায়নে এমআরটি লাইন-৬, এমআরটি লাইন-১ এবং এমআরটি লাইন-৫-এর নর্দার্ন রুটের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
মন্তব্য করুন