রাষ্ট্রের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে আন্তরিকভাবে কাজ করার পাশাপাশি নতুন উদ্দীপনা নিয়ে দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নতুন সদর দপ্তরের ‘শুভারম্ভ ফলক’ উন্মোচন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ আহ্বান জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে যৌথ অভিযান পরিচালনার কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পুলিশ, বিজিবি, এসআরবি ও আনসার বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রম একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক নিরসনে এ কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে তা আরও জোরদার করা হবে।
আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া পর্যায়ক্রমে পূরণ করা হবে। সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা ছিল পরিকল্পিত জায়গায় একটি সদর দপ্তর স্থাপন করা। আজ সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়েছে। সদর দপ্তর নির্মাণের জন্য গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে প্রায় ১১ বিঘা জায়গা বরাদ্দ পাওয়া গেছে।
তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ২০ হাজার ব্যাটালিয়ন আনসার এবং ৬০ হাজার অঙ্গীভূত আনসার সদস্য রয়েছেন। এ ছাড়া ৩৫ হাজার ভিডিপি দলনেতার অধীনে প্রায় ৬০ লাখ প্রশিক্ষিত জনশক্তি রয়েছে। নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে এটি দেশের সর্ববৃহৎ ফোর্স বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন জাতীয় সংকট ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আনসার বাহিনীর অবদানের প্রশংসা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সঙ্গে বাহিনীর আর্থিক ও অন্যান্য পর্যায়ক্রমিক দাবি-দাওয়া পূরণে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আনসার ব্যাটালিয়নের ঐতিহাসিক কিছু অর্জন রয়েছে, যা নিয়ে গর্ব করার মতো অনেক বিষয় আছে। তবে বাহিনীর বর্তমান সদর দপ্তরে স্থান সংকট রয়েছে। এ সংকট নিরসনে সরকার কাজ করছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডিসেম্বর বিজয়ের মাস। এ মাসে কোনো অপশক্তি দেশে নাশকতা সৃষ্টি করতে পারবে না।
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে অপর এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর ট্রাফিক ব্যবস্থায় যে উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে, তা প্রশংসিত হয়েছে। এ ধারা অব্যাহত রাখা হবে।
ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।