জিম্বাবুয়ে সরকার দুটি চিতাবাঘ ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর গাজীপুর সাফারি পার্কে তাদের জন্য বড় ও উন্নত বেষ্টনী তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বন অধিদপ্তর।
দীর্ঘ প্রায় আট বছর ধরে গাজীপুর সাফারি পার্কের ছোট ও সীমিত পরিসরের প্রকোষ্ঠে বন্দি রয়েছে জিম্বাবুয়ে থেকে পাচার হয়ে আসা দুটি চিতাবাঘ। ২০১৮ সালে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে খাঁচাবন্দী অবস্থায় উদ্ধারের পর থেকেই সাফারি পার্কে রয়েছে প্রাণী দুটি।
বন্য প্রাণী পাচার প্রতিরোধে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা ও আটক পাচারকারীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বন বিভাগ নিশ্চিত হয়, চিতাবাঘ দুটিকে আফ্রিকার দেশ জিম্বাবুয়ে থেকে পাচার করে বাংলাদেশে আনা হয়েছিল।
উদ্ধারের পর প্রথমে গাজীপুর সাফারি পার্কের বন্য প্রাণী হাসপাতালের কোয়ারেন্টিনে রাখা হয় তাদের। পরে দীর্ঘ সময় ধরে পার্কের ছোট প্রকোষ্ঠেই রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সাফারি পার্কের নির্ধারিত নকশার সীমাবদ্ধতা ও পর্যাপ্ত অর্থের অভাবে চিতাবাঘ দুটির জন্য বড় ও উপযুক্ত বেষ্টনী তৈরি করা সম্ভব হয়নি।
চিতাবাঘ দুটিকে নিজ দেশে ফিরিয়ে পুনর্বাসনের উদ্যোগে এগিয়ে আসে জিম্বাবুয়ের বন্য প্রাণী পুনর্বাসন নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘অ্যান আই ফর দ্য ওয়াইল্ড’। সংস্থাটি প্রাণী দুটিকে জিম্বাবুয়েতে ফিরিয়ে নিয়ে পুনর্বাসনের আগ্রহ প্রকাশ করে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ বন বিভাগের প্রধান সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী ২০২৫ সালের ১৭ এপ্রিল জিম্বাবুয়ের ন্যাশনাল পার্ক অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ ম্যানেজমেন্ট অথরিটির মহাপরিচালকের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠান। এতে জানানো হয়, চিতাবাঘ দুটি ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত এবং ‘অ্যান আই ফর দ্য ওয়াইল্ড’ প্রাণী দুটির সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিতে আগ্রহী।
জিম্বাবুয়ের কর্তৃপক্ষের ইতিবাচক সাড়ার আশায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে দফায় দফায় যোগাযোগ করা হয়। একই বছরের জুনে জিম্বাবুয়ে কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী চিতাবাঘ দুটির ভেটেরিনারি সনদও পাঠায় বন অধিদপ্তর।
তবে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও কাগজপত্র পাঠানোর পরও ২০২৫ সালের ১৭ আগস্ট এক ফিরতি চিঠিতে জিম্বাবুয়ের ন্যাশনাল পার্ক অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ ম্যানেজমেন্ট কর্তৃপক্ষ গাজীপুর সাফারি পার্কে থাকা চিতাবাঘ দুটি ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
এদিকে জিম্বাবুয়ের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘অ্যান আই ফর দ্য ওয়াইল্ড’ জানিয়েছে, তারা দেশটির বন্য প্রাণী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রায় দেড় বছর ধরে যোগাযোগ চালিয়ে আসছে। চিতাবাঘ দুটির জন্য প্রয়োজনীয় খাঁচা নির্মাণসহ পুনর্বাসনের কাজে ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত তহবিলও সংগ্রহ করেছে সংস্থাটি। তবে সরকারের সিদ্ধান্তের কারণে উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে জিম্বাবুয়ে সরকারের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমের ইমেইলেরও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
জিম্বাবুয়ে সরকার চিতাবাঘ দুটি ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর বাংলাদেশ বন অধিদপ্তর দেশেই তাদের জন্য স্থায়ী ও উন্নত বাসস্থানের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নিয়েছে।
গাজীপুর সাফারি পার্কের দায়িত্বে থাকা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জানান, চলতি অর্থবছরে চিতাবাঘ দুটির জন্য পর্যাপ্ত জায়গাসহ বড় একটি খাঁচা বা বেষ্টনী তৈরিতে বিশেষ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই এর নির্মাণকাজ শুরু হবে। এতে দীর্ঘদিন ধরে ছোট প্রকোষ্ঠে থাকা চিতাবাঘ দুটি তুলনামূলক বেশি জায়গা ও স্বস্তিকর পরিবেশ পাবে।
মন্তব্য করুন