ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কমানো ও নিজেদের সংকট মোকাবিলায় ইউরোপের দেশগুলোর ওপর জরুরি মজুত থেকে ডিজেল ছাড়ার চাপ সৃষ্টি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসনের চাপের পর ইউরোপের দেশগুলো বিপুল পরিমাণ মজুত ডিজেল বাজারে ছাড়তে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমানো এবং নিজেদের জ্বালানি সংকট সামাল দিতে ইউরোপের দেশগুলোর ওপর জরুরি মজুত থেকে ডিজেল বাজারে ছাড়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত ডিজেল ইউরোপে রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
তবে এ ঘোষণার একদিন পরই ইউরোপের দেশগুলো বিপুল পরিমাণ মজুত ডিজেল বাজারে ছাড়তে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, ইউরোপের দেশগুলোতে বিপুল পরিমাণ ডিজেল মজুত রয়েছে। তিনি বলেন, ইউরোপ বিপুল পরিমাণ মজুত ডিজেল ছাড়তে সম্মত হয়েছে এবং এ প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু হবে।
তবে কোন কোন দেশ কত পরিমাণ ডিজেল ছাড়বে বা এ উদ্যোগের বিস্তারিত পরিকল্পনা কী—সে বিষয়ে পোস্টে বিস্তারিত জানাননি ট্রাম্প।
এদিকে শুক্রবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ফ্রান্সের প্রস্তাব অনুযায়ী ইউরোপের দেশগুলো ৫ কোটি ব্যারেল ডিজেল এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সদস্য দেশগুলো আরও ৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বাজারে ছাড়তে পারে।
ইউরোপীয় দেশগুলোর আলোচনায় ২০ দিনের মধ্যে ধাপে ধাপে ডিজেলের একটি অংশ বাজারে ছাড়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। দ্রুত জ্বালানি মজুত ছাড়ার বিষয়ে ট্রাম্পের হুমকির পরিপ্রেক্ষিতেই এ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোঁ শুক্রবার বিকেলে জি৭ নেতাদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করেন। ফরাসি প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে, বৈঠকে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে জি৭ দেশগুলো ফ্রান্সের প্রস্তাবিত পরিমাণে জ্বালানি ছাড়তে সম্মত হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
মজুত জ্বালানি ছাড়ার আলোচনা প্রকাশ্যে আসার পর শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেল ফিউচারের দাম আরও কমেছে। দাম ৪ শতাংশের বেশি কমে প্রতি গ্যালন ৪ দশমিক ৪৪৯১ ডলারে নেমে আসে। ইউরোপের বেঞ্চমার্ক ডিজেল ফিউচারের দামও প্রতি মেট্রিক টনে ১০০ ডলারের বেশি কমেছে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা ও ইউএসএ টুডে
মন্তব্য করুন