অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : Sep 20, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

জাতিসংঘে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা ও রোহিঙ্গা সংকট তুলে ধরবেন তারেক রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর নিজের প্রথম ভাষণে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা, রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যুতে সরকারের অবস্থান তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘে এটি হবে তাঁর প্রথম বক্তব্য। এতে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারের চিন্তাভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয়ে দেশের অবস্থান তুলে ধরা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর উপলক্ষে আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভাষণের সম্ভাব্য বিষয়গুলো তুলে ধরেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং টেকসই উন্নয়ন গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক সহযোগিতা, তরুণ ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির সমতাভিত্তিক ব্যবহার এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়ও তুলে ধরবেন তিনি।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এটিই প্রথম অংশগ্রহণ। তাই আন্তর্জাতিক এই মঞ্চে বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও ভবিষ্যৎ পথচলার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরার জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান রোহিঙ্গা সংকটও বিশেষ গুরুত্ব পাবে। সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টি তুলে ধরা হবে।

এ লক্ষ্যে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের আয়োজনে রোহিঙ্গা ইস্যুতে অনুষ্ঠিত একটি পার্শ্ব-আয়োজনে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুত মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কামনা করবেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র সচিব রোহিঙ্গা সংকটকে ‘চলমান সমস্যা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বিশ্বনেতাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে সংকটের ব্যাপকতা ও এর কারণে সৃষ্ট বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ আবারও তুলে ধরবে বাংলাদেশ।

সিয়াম বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের ব্যাপকতা, এর ফলে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ এবং বাংলাদেশের কী ধরনের আন্তর্জাতিক সহায়তা ও সহযোগিতা প্রয়োজন, তা বিশ্বদরবারে আবারও তুলে ধরা হবে।

বাংলাদেশের অবস্থান অনুযায়ী, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, সম্মানজনক ও টেকসই উপায়ে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনই এই সংকটের একমাত্র স্থায়ী সমাধান।

প্রধানমন্ত্রীর সফরে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিও অগ্রাধিকার পাবে। এ বিষয়ে বিশ্বব্যাপী আরও কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরবে বাংলাদেশ।

আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরদিন সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট অস্তিত্বের ঝুঁকি নিয়ে আয়োজিত আরেকটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন তিনি।

এসব বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর উদ্বেগ তুলে ধরার পাশাপাশি জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ক্ষয়ক্ষতি পূরণ এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের ওপর গুরুত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

সাধারণ পরিষদের ভাষণে বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতায় বাংলাদেশের অগ্রাধিকারও স্পষ্ট করবেন তিনি। একই সঙ্গে তরুণ ও নারীর ক্ষমতায়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানাবেন।

বিশ্বের চলমান বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাধানের লক্ষ্যে বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী।

২৪ সেপ্টেম্বর মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি বিষয়ক আরেকটি পার্শ্ব-আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। সেখানে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন সরকারের উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবায় দক্ষ ও প্রশিক্ষিত ধাত্রীসেবার গুরুত্বের ওপর জোর দেবেন তিনি।

পররাষ্ট্র সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরে জাতিসংঘের মূল কর্মসূচিগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এর বাইরে দ্বিপক্ষীয় ও অন্যান্য বৈঠকের সময়সূচি পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্ধারণ করা হচ্ছে।

সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে কুয়েতের ক্রাউনপ্রিন্স এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করার কথা রয়েছে। এসব বৈঠকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

এ ছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার এবং ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের কথা রয়েছে।

সরকারের অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে মেটা, ওয়াল স্ট্রিটসহ কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী।

আগামীকাল নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন তারেক রহমান। সফরের সব কর্মসূচি শেষে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর তাঁর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

তৃণমূলে ঈদের আনন্দ ছড়ালেন ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর

1

ক্রীড়াঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র আবদুস সাদেককে শেষ বিদায়

2

চীনের সহযোগিতা বাড়াতে এলজিআরডি মন্ত্রীর প্রস্তাব

3

এআইতে সংবাদ ব্যবহারে গুগলের ওপর নতুন নিয়ন্ত্রণ

4

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সব ধরনের সহযোগিতা দেবে বাংলাদেশ: প্রধা

5

স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করতে ইউএনডিপির সঙ্গে কাজ করতে চায় সর

6

আগামী ৫০ বছরের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন

7

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃ

8

দুধ উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানি নির্ভরতা কমাতে হবে - মৎস্য ও প্রাণি

9

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে থাকছে না দলীয় প্রতীক, যোগ্য সবাই প

10

জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক র

11

‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ

12

শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান রা

13

ঢাকা ওয়াসা ভবনে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সভা

14

গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রাণচাঞ্চল্য এনেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ম

15

সীমিত সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের প্র

16

গণতন্ত্র ও জনকল্যাণে নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান সালাহউদ্দিনের

17

আমার সিদ্ধান্তেই ইসরায়েল আরও শক্তিশালী — ট্রাম্প

18

পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হওয়ার নির্দে

19

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য মানবিক

20