অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : Sep 24, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

পরিবার ও কমিউনিটি থেকেই শুরু হবে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা: প্রধানমন্ত্রী

পরিবার ও কমিউনিটিকে স্বাস্থ্যসেবার প্রাথমিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার মূল ভিত্তি করার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ লক্ষ্যে আরও এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

পরিবার ও কমিউনিটি থেকে স্বাস্থ্যসেবার সূচনা করে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার মূল ভিত্তি হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম’ নীতিকে সামনে রেখে স্বাস্থ্যব্যবস্থার এই রূপান্তরে নারী ও শিশুদের বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় সময় আজ দুপুরে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের কনফারেন্স রুম-৭-এ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে আয়োজিত ‘প্রতিশ্রুতি থেকে কার্যকর পদক্ষেপ: প্রতিরোধযোগ্য মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যু রোধে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় মিডওয়াইফারি অন্তর্ভুক্তি’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সাইড ইভেন্টে উদ্বোধনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

সুইডেন ও ইউএনএফপিএর অংশীদারত্বে বাংলাদেশ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক অঙ্গীকার তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা বিনিয়োগ, কার্যকর প্রতিষ্ঠান, দক্ষ জনশক্তি এবং মানুষের উন্নত জীবনে প্রতিফলিত হয়। এ কারণেই ‘প্রতিশ্রুতি থেকে কার্যকর পদক্ষেপ’ প্রতিপাদ্যটি বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক।

তিনি জানান, সরকার আরও এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশই নারী হবেন। এসব স্বাস্থ্যকর্মী পরিবারগুলোকে স্বাস্থ্যব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি প্রাথমিক পর্যায়েই স্বাস্থ্যঝুঁকি শনাক্ত করবেন এবং সময়মতো প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধারাবাহিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পেশাদার মিডওয়াইফদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন দক্ষ মিডওয়াইফ শুধু প্রসবসেবা প্রদানকারী নন; গর্ভধারণের পূর্বপর্যায় থেকে প্রসব-পরবর্তী সময় পর্যন্ত একজন নারীর আস্থাভাজন স্বাস্থ্যসেবাকর্মী হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

সারা দেশে ২৫ হাজার পেশাদার মিডওয়াইফ নিয়োগের সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ইতোমধ্যে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এসব মিডওয়াইফ বহুমুখী দক্ষতাসম্পন্ন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে কাজ করবেন।

তিনি বলেন, মিডওয়াইফরা প্রজননস্বাস্থ্যসেবা, গর্ভকালীন পরিচর্যা, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রসব নিশ্চিত করা, জটিলতা দ্রুত শনাক্ত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উচ্চতর স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে রেফারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। পাশাপাশি মা ও নবজাতকের সেবা, শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো, টিকাদান এবং শিশুর সুস্থ বিকাশেও তারা সহায়তা করবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পেশাদার মিডওয়াইফারি শিক্ষা চালু, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে মিডওয়াইফ নিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশ এ খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করেছে।

বর্তমানে দেশে ১১ হাজারের বেশি লাইসেন্সপ্রাপ্ত মিডওয়াইফ রয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে এ সংখ্যা ২৫ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সুইডেন ও ইউএনএফপিএর সঙ্গে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

ইউএনএফপিএর সহযোগিতায় ২২টি জেলায় মিডওয়াইফ-নেতৃত্বাধীন সেবা সম্প্রসারণ করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব জেলায় দক্ষ মিডওয়াইফরা এক লাখ ৫৪ হাজারের বেশি প্রসবে সহায়তা করেছেন এবং মাতৃস্বাস্থ্যের বিভিন্ন জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভূমিকা রেখেছেন।

তিনি বলেন, এসব সংখ্যা শুধু পরিসংখ্যান নয়; এর সঙ্গে নিরাপদে বাড়ি ফিরে যাওয়া মায়েদের গল্প এবং আশার আলো নিয়ে জীবনের পথে যাত্রা শুরু করা নবজাতকদের ভবিষ্যৎ জড়িয়ে রয়েছে।

বাংলাদেশ একটি সমন্বিত ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলছে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, এর আওতায় প্রত্যেক নাগরিকের জন্য একটি হেলথ কার্ড থাকবে। এটি ডিজিটাল স্বাস্থ্য রেকর্ড ও ইলেকট্রনিক রেফারেল ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকবে।

তিনি বলেন, এর ফলে একজন গ্রামীণ নারীর স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য তার বাড়ির কাছাকাছি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিবন্ধিত ও সংরক্ষিত থাকবে। তাকে উচ্চতর পর্যায়ের হাসপাতালে রেফার করা হলে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যতথ্যও তার সঙ্গে যাবে।

নারীর স্বাস্থ্যসেবাকে শুধু গর্ভধারণ ও সন্তান প্রসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। এর মধ্যে কিশোরীদের স্বাস্থ্য, প্রজননস্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনার পাশাপাশি জরায়ুমুখ ও স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ এবং প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণকে গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার আওতায় নারীর বৃহত্তর স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার অংশ হতে হবে মিডওয়াইফারিকে। এ ক্ষেত্রে জাতীয় মালিকানা ও টেকসই অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগকে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে গ্রহণ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক নারী যেন তার বাসস্থানের কাছাকাছি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দলের অংশ হিসেবে একজন দক্ষ পেশাদার মিডওয়াইফের সেবা পাওয়ার সুযোগ পান—এটাই বাংলাদেশের লক্ষ্য।

তিনি বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে দেশব্যাপী মিডওয়াইফদের নিয়োগ ও সেবা নিশ্চিত করা, কমিউনিটিভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা ও রেফারেল ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং আধুনিক ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থার মাধ্যমে নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে যুক্ত করা প্রয়োজন।

তারেক রহমান দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, এসব পদক্ষেপ একসঙ্গে একটি সুস্থ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। এভাবেই বাংলাদেশ ‘প্রতিশ্রুতি থেকে কার্যকর পদক্ষেপের’ দিকে এগিয়ে যাবে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ধর্ম নয়, নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার নিশ্চিত করা দায়িত্ব: প্রধ

1

তৃণমূলের শিল্পায়নে নতুন গতি আনতে বিসিকের মহাপরিকল্পনা

2

RDMS চালু করল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

3

দেশের ২৫টি সরকারি জলমহাল ছয় বছরের জন্য ইজারার সিদ্ধান্ত

4

মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

5

১০ বছর পর খুলছে ওসমানী উদ্যান, উদ্বোধন ১৯ অক্টোবর

6

ঠোঁট-তালু কাটা শিশুদের চিকিৎসায় সহযোগিতা করছে সরকার

7

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব জনগোষ্ঠীকে নিয়ে রাজনীতি করতে চায় বিএ

8

ঢাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ২০ টিম, অনিয়মে জরিমানা ও সরকারি বা

9

৪ হাজার কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নে এগিয়ে এলজিইডির আরসিআইপি, এডিবি

10

স্বাস্থ্য খাতে চীনা বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

11

৩০ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন ইবির তিন হল; ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

12

পুলিসিক ছাড়াই দাপুটে যুক্তরাষ্ট্র, প্রথমার্ধেই অস্ট্রেলিয়াকে

13

রিয়ালের বিদায় ঘণ্টা বাজিয়ে সেমিতে বায়ার্ন

14

সাংস্কৃতিক আগ্রাসন রুখতে দেশীয় সংস্কৃতিচর্চার আহ্বান রিজভীর

15

বৃত্তি-উপবৃত্তিতে সমতা নয়, প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে: প্

16

রবীন্দ্রনাথ ও বার্ট্রান্ড রাসেলের ১১৪ বছরের পুরোনো চিঠি প্রক

17

জনগণের আস্থা অর্জনে নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল হওয়ার নির্দেশ প্

18

জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সা দেশের কল্যাণে ব্যয়ের নির্দেশ প্রধ

19

লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্

20