ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে সিট বণ্টনে স্বচ্ছতা, শিক্ষার্থীদের আবাসিক অধিকার ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিতসহ নয় দফা দাবিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আবাসিক হলগুলোতে সিট বণ্টনে স্বচ্ছতা ও নিয়মের যথাযথ প্রয়োগসহ শিক্ষার্থীদের আবাসিক অধিকার ও নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে নয় দফা স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) উপাচার্যের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় শাখা শিবিরের নেতৃবৃন্দ উপাচার্য বরাবর এ স্মারকলিপি দেন। এ সময় শাখা শিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী, সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফিসহ অন্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপিতে আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের নিরাপদ আবাসন, পড়াশোনার উপযোগী পরিবেশ ও স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন নিশ্চিত করার পাশাপাশি হলের অবকাঠামো উন্নয়নের কথা বলা হয়। সিট বণ্টনে প্রচলিত বিধি-বিধান, নীতিমালা, মেধা, জ্যেষ্ঠতা, বৈধতা ও স্বচ্ছতার যথাযথ প্রতিফলনের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরা হয়।
এতে রাজনৈতিক পরিচয়, দলীয় সুপারিশ কিংবা ব্যক্তিগত প্রভাবের ভিত্তিতে কোনো শিক্ষার্থীর আবাসিক অধিকার ক্ষুণ্ন না করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে কোনো বৈধ শিক্ষার্থী আবাসিক সিটের জন্য অপেক্ষমাণ থাকা অবস্থায় কেউ নিয়মবহির্ভূতভাবে হলে অবস্থান করলে তা শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ ও বৈষম্যের অনুভূতি সৃষ্টি করতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়।
শাখা শিবিরের নয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে অবৈধভাবে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের দ্রুত শনাক্ত করে নিয়ম অনুযায়ী অপসারণ; রাজনৈতিক পরিচয়, দলীয় সুপারিশ কিংবা প্রশাসনিক বা ব্যক্তিগত প্রভাবের ভিত্তিতে হলের সিট বরাদ্দ বন্ধ করা; সিট বণ্টনের জন্য সুস্পষ্ট, স্থায়ী ও লিখিত নীতিমালা প্রণয়ন এবং মেধা, জ্যেষ্ঠতা ও অন্যান্য যৌক্তিক মানদণ্ড নির্ধারণ করা।
এ ছাড়া প্রতিটি হলের সিট বণ্টনের তালিকা যথাযথভাবে প্রকাশ করে সিট বাণিজ্য, অনিয়ম কিংবা অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ বন্ধ করা এবং প্রতি ছয় মাস পরপর হলগুলোর সিট বরাদ্দের প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
দাবিগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে হলে বহিরাগতদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা, রাজনৈতিক অপতৎপরতা বন্ধ করে শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
সাম্প্রতিক ঘটনাবলির পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় প্রশাসনকে কার্যকর, নিরপেক্ষ ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি হলের ডাইনিংয়ে মানসম্মত খাবার ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।