দক্ষিণ এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান আন্তঃদেশীয় ও সংঘবদ্ধ বন্যপ্রাণী অপরাধ মোকাবিলায় আঞ্চলিক গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সমন্বিত আইন প্রয়োগ ও যৌথ কার্যক্রম জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
দক্ষিণ এশিয়ায় বন্যপ্রাণী অপরাধ দমনে শক্তিশালী আঞ্চলিক সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। তিনি বলেন, আন্তঃদেশীয় ও সংঘবদ্ধ বন্যপ্রাণী অপরাধ মোকাবিলায় দেশগুলোর মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সমন্বিত আইন প্রয়োগ এবং যৌথ কার্যক্রম আরও জোরদার করা জরুরি।
নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ এশিয়া বন্যপ্রাণী আইন প্রয়োগ নেটওয়ার্ক (SAWEN)-এর প্রথম সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বন্যপ্রাণী ও প্রতিবেশ ব্যবস্থা কোনো রাজনৈতিক সীমারেখা মেনে চলে না। অপরাধী চক্র সীমান্ত, পরিবহন ব্যবস্থা, বাণিজ্যিক চ্যানেল, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও আর্থিক ব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে আন্তঃদেশীয় বন্যপ্রাণী পাচার পরিচালনা করছে।
তিনি বলেন, আইন প্রয়োগের কার্যক্রম শুধু বন্যপ্রাণী জব্দ ও অপরাধী গ্রেপ্তারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। এসব অপরাধের পেছনে থাকা সংগঠক, অর্থদাতা ও অপরাধী নেটওয়ার্ককে শনাক্ত, তদন্ত ও নিষ্ক্রিয় করার উদ্যোগ নিতে হবে।
আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, প্রতিটি বন্যপ্রাণী জব্দের ঘটনাকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানো প্রয়োজন। বন্যপ্রাণী কোথা থেকে এসেছে, কোন পথে এসেছে, কারা এর সঙ্গে জড়িত, কে অর্থায়ন করেছে এবং কোথায় পাঠানো হচ্ছিল—এসব বিষয় খুঁজে বের করতে হবে।
অনলাইনে সংঘটিত বন্যপ্রাণী অপরাধ মোকাবিলায় অনলাইন মনিটরিং, সাইবার তদন্ত এবং ডিজিটাল প্রমাণ ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে বড় ধরনের বন্যপ্রাণী অপরাধের ক্ষেত্রে জাতীয় আইন অনুযায়ী আর্থিক তদন্ত, সম্পদ শনাক্তকরণ এবং অর্থপাচারবিরোধী ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
বন্যপ্রাণী ফরেনসিক, ডিএনএ বিশ্লেষণ, ডিজিটাল ফরেনসিক ও ভূ-স্থানিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর কথাও বলেন আবদুল আউয়াল মিন্টু। পাশাপাশি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে যৌথ প্রশিক্ষণ ও বিশেষজ্ঞ বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
উদ্ধার, পুনর্বাসন এবং জব্দ করা জীবন্ত বন্যপ্রাণীর প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রেও আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
SAWEN-এর কৌশলগত পরিকল্পনা ২০২৬-২০৩০ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রস্তাবিত এই কৌশলগত পরিকল্পনা অগ্রাধিকারগুলোকে একটি সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবায়নযোগ্য আঞ্চলিক কর্মসূচিতে রূপ দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে।
বাংলাদেশ এমন একটি পরিকল্পনাকে সমর্থন করে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এতে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, আইন প্রয়োগ, ফৌজদারি বিচার, ডিজিটাল ও আর্থিক তদন্ত, বিজ্ঞান ও ফরেনসিক, সক্ষমতা উন্নয়ন এবং বন্যপ্রাণীর চাহিদা হ্রাসের ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
তিনি বলেন, SAWEN-এর প্রথম সাধারণ পরিষদ রাজনৈতিক অঙ্গীকারকে বাস্তব কার্যক্রমে রূপ দেওয়ার অনন্য সুযোগ তৈরি করেছে। কাঠমান্ডু থেকে সদস্য দেশগুলো আরও শক্তিশালী গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ব্যবস্থা, বাস্তবভিত্তিক যৌথ কার্যক্রম এবং বন্যপ্রাণীর জন্য হুমকিস্বরূপ অপরাধী নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার অভিন্ন অঙ্গীকার নিয়ে ফিরবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বাংলাদেশ SAWEN-এর সব সদস্য দেশ, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে একটি শক্তিশালী, আন্তঃসংযুক্ত ও কার্যকর আঞ্চলিক বন্যপ্রাণী আইন প্রয়োগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রস্তুত বলেও পুনর্ব্যক্ত করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী।
সম্মেলনে নেপালের হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভের স্পিকার দোল প্রসাদ আরিয়াল, নেপালের কৃষি, বন ও পরিবেশ মন্ত্রী গীতা চৌধুরী, SAWEN-এর মহাসচিব ড. কৃষ্ণ প্রাসাদ আচার্য এবং নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটান, পাকিস্তান, মালদ্বীপ ও বাংলাদেশের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।