অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : Sep 30, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

চীনের কাছে বিনিয়োগ ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা চাইলেন রাষ্ট্রপতি

বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বাড়ানো এবং রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরিতে সহযোগিতা আরও বাড়াতে চীনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বিদায়ী সাক্ষাৎ করতে বঙ্গভবনে গেলে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাসসকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

সাক্ষাৎকালে রোহিঙ্গা সংকটে চীনের ভূমিকার প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, সংকটের সমাধান এবং টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে চীনের উদ্যোগ সহায়ক হবে।

তৈরি পোশাক, বৈদ্যুতিক যান, হালকা প্রকৌশল, উচ্চপ্রযুক্তির ইলেকট্রনিকস, সেমিকন্ডাক্টর ও সৌরশক্তিসহ বিভিন্ন খাতে চীনের সহযোগিতা ও বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

কুনমিং-চট্টগ্রাম করিডর এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডরসহ বহুপক্ষীয় আঞ্চলিক যোগাযোগের উদ্যোগকে স্বাগত জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, পারস্পরিক স্বার্থে চীন ও সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে বাংলাদেশ প্রস্তুত।

মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ এবং চায়না ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে যোগাযোগ, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে চীনের কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা আরও এগিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেন।

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক জোরদারে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের অবদানের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯৭৭ ও ১৯৮০ সালের চীন সফর এবং ২০২৬ সালের এপ্রিলে তাঁর নিজের, বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ ও তরুণ নেতৃত্ব এবং শিক্ষার্থীদের চীন সফর ও বৈঠক দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর ও সুদৃঢ় করেছে।

চীনকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সামনের দিনগুলোতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও সুসংহত হবে।

এক হাজার শয্যার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণ ও অর্থায়নের জন্য চীনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান রাষ্ট্রপতি।

এ ছাড়া সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে জনগণের জন্য উন্মুক্ত জটিল ব্লাড ক্যান্সারের চিকিৎসায় চীনা দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। জবাবে রাষ্ট্রদূত সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক উন্নয়নে তাঁর অবদান বাংলাদেশ কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব উপস্থিত ছিলেন। চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি চিফ অব মিশন ড. লিই ইউইন।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জিয়াউর রহমান ছিলেন রাষ্ট্র পুনর্গঠনের রূপকার

1

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে প্রচার জোরদারের তাগিদ

2

নগর পরিকল্পনায় দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দিতে

3

যুক্তরাষ্ট্রের চাপে মজুত ডিজেল ছাড়ছে ইউরোপ

4

জীবনকালীন ভোগাধিকার রেখে সম্পত্তি দানে নতুন আইন

5

উচ্চশিক্ষায় আসন সংকট নেই, সাড়ে ৬ লাখ উত্তীর্ণের বিপরীতে প্রা

6

‘সর্বহারা’ পরিচয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ, উদ্বেগে রাবির শিক্ষকরা

7

কর্ণফুলী ইপিজেডের কারখানায় সবুজের ছায়ায় শ্রমিকদের স্বস্তি

8

শার্শায় প্রায় ১২ কোটি টাকায় নির্মিত হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন আর্চ স

9

জাতিসংঘে ভাষণ দিতে কাল নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক

10

বেনজীরকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

11

খাদ্য সংরক্ষণ ও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণে বাংলাদেশ-পাকি

12

সংবিধান সংশোধনে গুম প্রতিরোধ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতের দাবি

13

গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্

14

ইনানীতে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানি, শোক জানালেন পর্যটনমন

15

নরওয়ের রাজার মৃত্যুতে শোক জানালেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

16

এশীয় সহযোগিতা জোরদারে তিন প্রস্তাব বাংলাদেশের

17

দুর্গাপূজার ছুটিতে পর্যটনকেন্দ্রে ভিড়, চাঙা স্থানীয় অর্থনীতি

18

ছাদে সৌরবিদ্যুৎ থেকে স্মার্ট গ্রিড, বদলে যাচ্ছে ডেসকোর বিদ্য

19

নয় দফা দাবিতে ইবি শিবিরের উপাচার্যকে স্মারকলিপি

20