কৃষকদের সামগ্রিক উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণে দল-মত-পথের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় পর্যায়ে একটি কেন্দ্রীয় সংগঠন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
কৃষকদের সামগ্রিক উন্নয়ন ও সার্বিক স্বার্থ সংরক্ষণে জাতীয় পর্যায়ে একটি কেন্দ্রীয় সংগঠন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দল-মত-পথ নির্বিশেষে কৃষকদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
আজ দুপুরে বঙ্গভবনে বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান কুল ময়েজের নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।
প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন মো. আব্দুল জলিল, মো. হাসান আলী, মোছা. বেলী বেগম, মো. আবু তালেব জোয়াদ্দার, মো. হাফিজুর রহমান মুকুল, তোফাজ্জল হোসাইন (পল্টি) ও শওকত আলম।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি কৃষকদের দেশের অন্যতম প্রধান শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, কৃষকরাই দেশ গড়ার যোদ্ধা। কৃষকদের সম্মানিত ও উৎসাহিত করতে কৃষি ক্ষেত্রে নতুন উদ্ভাবন এবং অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে রাষ্ট্রপতি কৃষি পুরস্কার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি কৃষকদের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে কৃষি ও বাণিজ্য মন্ত্রীসহ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করে কৃষকদের স্বার্থকে একটি আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের সবচেয়ে ইতিবাচক খাতগুলোর একটি কৃষি। কৃষকের শ্রম ও ঘামের পাশাপাশি নতুন নতুন উচ্চফলনশীল জাত, কৃষি প্রযুক্তির উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের ফলে দেশে ফসল উৎপাদন বহুগুণ বেড়েছে।
তিনি আরও বলেন, কৃষকেরা দুর্নীতিতে জড়িত নন; বরং সমাজ ও রাষ্ট্রের অগ্রগতিতে তারা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, কৃষিপণ্য ও শস্য যাতে সহজে ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে পারে এবং কৃষক যাতে উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য পান, সে জন্য কার্যকর বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এ বিষয়ে কৃষকদের আরও উদ্যোগী, সচেতন ও সজাগ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি জানান, কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং কৃষকদের উন্নয়নে বর্তমান সরকার একটি নতুন স্কিম চালু করেছে। এর আওতায় ইতোমধ্যে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকার কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ করেছে। সহজ শর্তে কম সুদে কৃষিঋণের ব্যবস্থা করাসহ কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন তিনি। এসব উদ্যোগের সুফল কৃষকেরা অচিরেই পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রপতি।
সাক্ষাৎকালে কৃষক সমিতির প্রতিনিধি দল কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত, বিনা সুদে ঋণ সুবিধা, কৃষকদের স্বীকৃতি দিতে কৃষক দিবস পালন ও জাতীয় পুরস্কার প্রদান, শস্যবীমা চালু, জেলা ও উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে কৃষকদের প্রতিনিধিত্ব, বজ্রপাত ও সাপের কামড় থেকে সুরক্ষা এবং কৃষি উপকরণের সুলভ সরবরাহসহ বিভিন্ন দাবি রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশে উৎপাদিত ফলমূল ও কৃষিজাত পণ্যের বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এবং এ খাতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এসব কৃষিপণ্য ও প্রক্রিয়াজাত পণ্য রপ্তানিতে এগিয়ে আসতে সমিতির সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এ ছাড়া কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প-কারখানা ও আধুনিক হিমাগার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া এবং খামারে আধুনিক সৌর প্যানেল ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি। এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের সুদের হার কমানোর বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
কৃষক সমিতির সভাপতি জানান, ঈশ্বরদীতে কৃষিক্ষেত্রে অবদানের জন্য ৭০ বছরের বেশি বয়সী কৃষকদের সংবর্ধনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আধুনিক কৃষিপণ্যের প্রদর্শন ও বাণিজ্যিকীকরণে একটি মেলার আয়োজন করা হবে। তিনি রাষ্ট্রপতিকে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি মেলায় উপস্থিত থাকার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন