ইয়েমেনে হুথিদের সঙ্গে সংঘাতের মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি যখন তাদের অনুকূলে যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, তখন সৌদি আরবের হোটেল থেকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের সামরিক অভিযানের ঘোষণা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও হুথি-সমর্থক সাংবাদিক হুসেইন আল-বুখাইতি এই নেতৃত্বকে ‘বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন’ বলে মন্তব্য করেছেন।
ইয়েমেনে হুথিদের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের নেতৃত্ব সৌদি আরবে অবস্থান করে সামরিক অভিযানের ঘোষণা দিচ্ছে। এ পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও হুথি-সমর্থক সাংবাদিক হুসেইন আল-বুখাইতি।
সানা থেকে আল জাজিরাকে দেওয়া বক্তব্যে আল-বুখাইতি বলেন, ইয়েমেনের নেতারা ২০১৫ সাল থেকেই সৌদি আরবের রিয়াদের বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করছেন। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ সমর্থনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল।
সম্প্রতি ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট রাশাদ আল-আলিমি হুথিদের বিরুদ্ধে নতুন একটি বড় সামরিক অভিযানের ঘোষণা দিয়েছেন। এই ঘোষণার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আল-বুখাইতি বলেন, এর বাস্তব ফল কী হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তাঁর মতে, সৌদি আরব নতুন করে বড় কোনো সামরিক জোট গঠন করে সর্বাত্মক হামলা না চালালে এ ধরনের ঘোষণার কার্যকর ফল পাওয়ার সম্ভাবনা কম।
মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি হুথিদের অনুকূলে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা তাইজ ও এডেনের মধ্যবর্তী প্রধান মহাসড়কের বেশ কিছু এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহপথ হিসেবে ব্যবহৃত এই মহাসড়ক এখন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
গত দুই মাসের লড়াইয়ের আগে তাইজ প্রদেশের ৭০ শতাংশের বেশি এলাকা সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। বর্তমানে এর প্রায় ৮০ শতাংশ হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে আল-বুখাইতির দাবি। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তাইজ শহরটি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ‘স্বাধীন’ হতে পারে বলেও ধারণা করছেন তিনি।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ইয়েমেনের মিত্র সরকারকে নতুন কিস্তিতে প্রায় ৬০ মিলিয়ন ডলার বা ২২ কোটি ৪০ লাখ রিয়াল আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে সৌদি আরব। সৌদি প্রেস এজেন্সি জানিয়েছে, এই অর্থ ইয়েমেনের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, আয় নিশ্চিত করা এবং বাজার চাঙ্গা করতে ভূমিকা রাখবে।
সৌদি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আল-জাবের জানান, এই তহবিল সরকারের আর্থিক কার্যক্রম গতিশীল করার পাশাপাশি নাগরিকদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করবে।
সৌদি প্রেস এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ইয়েমেনে সৌদি আরবের মোট অর্থনৈতিক সহায়তার পরিমাণ ১২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।
মন্তব্য করুন